সোনাইমুড়ীতে এলডিপি কর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরসহ বাবাকে পিটিয়ে আহত
আঞ্চলিক প্রতিনিধি :
গতকাল সোনাইমুড়ী উপজেলার ০১নং জয়াগ ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ড উলুপাড়া গ্রামের নাজমুল হাসান মোহন নামের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটি(এলডিপি)-র এক কর্মীর বাড়িতে হামলাসহ বসতঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়,এলডিপি কর্মী নাজমুল হাসান মোহন বিগত সরকারি দল আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে একাধিক বার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। যারফলে তার রাজনৈতিক শত্রুরা তাকে খুঁজতে এসে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন ভাবে তাদের বাড়িতে হামলা করেছে এবং তার মা নাছরিন আক্তার ও বাবা মোঃ আবদুল করিমকেও এর আগে একাধিক বার পিটিয়ে আহত করেছে।
স্থানীয়দের থেকে জানা যায়,, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ও মোহনের পরিবারের উপর ঘটেছিল আরেক হৃদয় বিদারক ঘটনা। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা দলবদ্ধ ভাবে হামলা চালিয়ে গণপিটুনি দিয়ে তার বাবা মোঃ আবদুল করিম ও মা নাছরিন আক্তারকে মুমূর্ষ অবস্থায় ছেড় দেয় এবং তাদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে।
স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, গতকাল সকাল বেলায় ৭/৮ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্র হাতে বিএনপির স্লোগান দিতে দিতে এলডিপি কর্মী নাজমুল হাসান মোহনের বাড়িতে এসে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকেই অতীতে আওয়ামী লীগের ক্যাডার ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বৈষম্য বিরোধী সংগঠনের নেতাদের সাথে এক হয়ে কাজ করে তারা । সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুর্বে দল বদল করে তারা বর্তমান সরকারি দল বিএনপির নাম ব্যবহার করে নানারকম অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে ।
স্থানীয়রা আরও জানান, বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই সকল সন্ত্রাসীরা কৌশল অবলম্বন করে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র ব্যানারে সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক শত্রুদের উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সরাসরি পুলিশেরও মদদ রয়েছে।
এলডিপি কর্মী নাজমুল হাসান মোহনের চাচাতো ভাই হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাসীরা বিএনপির স্লোগান দিতে দিতে বাড়িতে এসে তার চাচার নাম ধরে উচ্চস্বরে ডাকতে থাকেন এবং কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সন্ত্রাসী সুমন প্রথমে তার চাচা মোঃ আবদুল করিমকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরবর্তীতে সুমনের সহযোগীরা তার চাচাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং বসতঘরে ভাঙচুর চালায়।সন্ত্রাসীরা তখন হুমকি দিয়ে বলে নাজমুল হাসান মোহন তাদের হাত থেকে বাঁচতে পারবেনা, তাকে যখন পাবে তখনি খুন করবে।
সন্ত্রাসীরা তাদেরকে শান্তিতে বসবাস করতে দিবেনা বলে বাড়ির চলাচলের রাস্তা কেটে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে।
স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় হাবিবুর রহমান তার চাচাকে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী চাটখিল ইবনে-সিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। অন্যদিকে সরকার দলীয় ক্ষমতার অপব্যাবহার করে সন্ত্রাসীরা উল্টো মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তার চাচাকে থানা পুলিশের চাপে রেখেছেন।
সোনাইমুড়ী উপজেলার মানবাধিকার কর্মী জনাব খোরশেদ আলম দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন পরিবারটি বরাবরই নির্যাতিত। রাজনৈতিক পেশী শক্তির কারনে কখনো তারা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা পায়নি, এই ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন। ক্ষমতার লোভে আওয়ামী লীগের এই সকল সন্ত্রাসীদেরকে বিএনপি নিজের দলে জায়গা করে দিয়ে সাধারণ মানুষ আগের মতো এখনও নির্যাতিত হচ্ছে।
এই ব্যাপারে সোনাইমুড়ী থানার ওসির সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।






