বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মৌলবাদীদের হামলায় নিষ্পাপ আপিপা আক্তার অপি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেপল্লী মঙ্গল স্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিতচাটখিল উপজেলা সোসাইটি ইউএসএ ইনক এর পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি প্রকাশঃ-চাটখিলের বাদুলী জামে মসজিদের নুতন কমিটি গঠনআদিলের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভছাত্রলীগ নিষিদ্ধের খবরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নোয়াখালীতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ   ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’: হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধআওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ ও আদালতে আওয়ামীলীগের শ্লোগানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও কোর্ট পি.পির কক্ষে তালা  ২ দিনের রিমান্ডে সাবেক এমপি একরামুলনোয়াখালীতে আদালত প্রাঙ্গণে আ.লীগ নেতাকর্মিদের স্লোগান

মুসাপুর রেগুলেটর তলিয়ে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভবন সহ আশপাশ নদীর গর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে

আপডেটঃ : বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৪ পাঠক: ৬৭৫

মোঃ নুর হোসাইন :
নোয়াখালীর মুসাপুর রেগুলেটর ভেঙে তলিয়ে যাওয়ার পর মেঘনার জোয়ারে প্লাবিত হয়ে আশপাশে ভাঙতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভবন সহ আশপাশের সড়ক, ফরেস্ট , দোকানপাট সহ বিভিন্ন স্থাপনা মেঘনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতং ছড়িয়ে পড়েছে।মানুষজন বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে । অনেক স্থানীয় বাসিন্দাকে দেখা গেছে জরুরী আসবাবপত্র , জিনিসপত্র এবং কেউ কেউ ঘরের চাল, বেড়াও খুলে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। মুসাপুর রেগুলেটর সংলগ্ন আর্মি ক্যাম্পও যেকোন সময় মেঘনায় বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্থানীয়রা আশাংকা করছেন নদী উত্তাল হয়ে পড়লে জোয়ারের পানিতে মুসাপুরের আশপাশ সহ পুরো কোম্পানিগঞ্জ ও নোয়াখালী প্লাবিত হয়ে যেতে পারে।

কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আনোয়ার হোসাইন পাটোয়ারী বলেন- অতিরিক্ত পানির চাপে মুসাপুর রেগুলেটর ভেঙে গেছে। আজকে জোয়ারের তোড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটা বিল্ডিং ভেঙে গেছে। আশপাশে প্লাবিত হয়ে আরো নতুন এলাকাও প্লাবিত হতে পারে এবং ভাঙন ধরতে পারে।স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

এর আগে গতকাল সোমবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১০টার দিকে এই ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, ২০০৪ সালে ডাকাতিয়া নদীর মুখে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে মুছাপুর রেগুলেটেরর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এর কাজ শেষ হয় ২০০৯ সালের দিকে। এতে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর, চরপাবর্তী, চরহাজারী ইউনিয়ন নদী ভাঙ্গা এবং অতিরিক্ত জোয়ারের পানি থেকে রক্ষা পায়। সোমবার সকালের দিকে প্রথমে রেগুলেটরে একটু ফাটল দেখা দেয়। এরপর সকাল ১০টার দিকে রেগুলেটরের মাঝ খানের অংশ ভেঙ্গে যায়। একপর্যায়ে পুরো রেগুলেটর ভেঙ্গে ডাকাতিয়া নদীতে তলিয়ে যায়।

এর আগে, গত ২৪ আগস্ট নোয়াখালীর বন্যার পানি নামাতে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর রেগুলেটরের তিন মিটার বাই তিন মিটার আয়তনের ২৩টি গেটের সবগুলো গেট খুলে দেওয়া হয়। ফলে ওই সময়ের কোম্পানীগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়। কিন্তু মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙ্গে যাওয়ায় বন্য পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। ফলে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান- সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র মির্জা কাদেরের নেতৃত্বে তার পরিবার , তাদের দলীয় ক্যাডার ও ভূমিদস্যুরা মিলে মুসাপুর রেগুলেটরের আশেপাশ থেকে অবৈধভাবে অন্তত ৫০ কোটি টাকার বালু উত্তোলন করেছে ,যার কারণে এই রেগুলেটরটি ভেঙে গেছে । তারা আরো বলেন, এতে সাথে স্থানীয় প্রশাসনেরও যোগসাজশ থাকতে পারে। সেটাও খতিয়ে দেখা হোক। কারণ প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।

পাঠক: ৬৭৫
আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ