বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মৌলবাদীদের হামলায় নিষ্পাপ আপিপা আক্তার অপি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেপল্লী মঙ্গল স্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিতচাটখিল উপজেলা সোসাইটি ইউএসএ ইনক এর পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি প্রকাশঃ-চাটখিলের বাদুলী জামে মসজিদের নুতন কমিটি গঠনআদিলের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভছাত্রলীগ নিষিদ্ধের খবরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নোয়াখালীতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ   ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’: হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধআওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ ও আদালতে আওয়ামীলীগের শ্লোগানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও কোর্ট পি.পির কক্ষে তালা  ২ দিনের রিমান্ডে সাবেক এমপি একরামুলনোয়াখালীতে আদালত প্রাঙ্গণে আ.লীগ নেতাকর্মিদের স্লোগান

এ ঘরেই নির্ঘুম রাত কাটে বিধবা শ্যামলী রানির

bijoyadmin
আপডেটঃ : শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ পাঠক: ১,৫৬৩

স্টাফ রির্পোটার-
নেই স্বামী, নেই ছেলে সন্তান। ধার দেনা করে দুই মেয়েকে বিয়ে দিলেও নিজের খাবার জোটে না। এক বেলা খেতে পারলেও উপোস থাকেন দুই বেলা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে চলছে জীবন। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ একটি ঘরে একাই বসবাস করছেন। কুয়াশা-বৃষ্টি-বাতাসের আতঙ্কে ভাঙা ঘরে নির্ঘুম রাত কাটে তার।

বলছিলাম বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জগেন্দ্র উকিলের বাড়ির মৃত ফরেশ চন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী শ্যামলী রানি মজুমদারের কথা।

জানা যায়, মাত্র দুই শতক জমিতে রেখে শ্যামলী রানি মজুমদারের ১০ বছর আগে স্বামী ফরেশ চন্দ্র মজুমদার মারা গেছেন। এছাড়া তার নেই কোনো সহায়-সম্বল। ঋণ করে মানুষের কাছে হাত পেতে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে এখন নিঃস্ব তিনি। বেঁচে থাকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে করছেন ঝিয়ের কাজ। এভাবে জীবিকা নির্বাহ করে চলছেন শ্যামলী রানি। বসতঘর জরাজীর্ণ, নেই জানালা কিংবা দরজা। জোড়াতালি দেওয়া ওই ভাঙা ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে চলছেন তিনি। একমুঠো খাবারের যোগানে সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রাতে ঠিকভাবে ঘুমটাও জোটে না তার কপালে। শীতের কুয়াশায় আর বৃষ্টি-বাতাসে আতঙ্কে একাকী নির্ঘুম রাত কাটে তার। বর্ষাকালে আকাশের মেঘ দেখলে দৌড়ে যেতে হয় অন্যের ঘরে। আর শীতকালে কনকনে বাতাস আর কুয়াশায় ভিজে যায় বিছানাপত্র।

শ্যামলী রানি মজুমদারের প্রতিবেশী তাপস মজুমদার বলেন, এই ঘরটায় থাকার মতো অবস্থা এই। পুরো ঘরটাই প্রায় ভেঙে গেছে। এতদিন এখানে থাকলেও আজ কয়েকদিন একেক সময় একেক মানুষের ঘরে থাকছেন। উনার দুটো মেয়ে আছে। তাদের বিয়ে দিয়েছেন। তারা কখনো স্বামীসহ বেড়াতে আসতে পারে না। সকালে আসলে বিকেলে চলে যায়। এই ঘরে বসার মতো অবস্থা নেই।
আরেক প্রতিবেশী সুজন মজুমদার বলেন, বিধবা শ্যামলী রানি এখন খুবই কষ্টে দিনপার করছেন। একটি মাত্র ঘর, তাও আবার ভাঙাচোরা। একদম বসবাস অনুপযোগী। সরকারি কিংবা কোনো ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান তাকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিলে ভালো হতো।

শ্যামলী রানির বড় মেয়ে অপর্ণ্যা রানি মজুমদার বলেন, আমার মা খুব কষ্টে আছেন। আমাদের ঘর নেই। আমাদের বাবা নাই, ভাই নাই। আমরা স্বামীর বাড়ি থেকে আসতে পারি না। দিনে এসে দিনে চলে যাই। জামাইদের বসার মতো জায়গা নেই।
বিধবা শ্যামলী রানি মজুমদার বলেন, আমার স্বামী ও নেই ছেলেও নেই। ঘর ভাঙার পরে কান্নাকাটি করে মানুষের ঘরে থাকি। কী আর করব? আমার বাঁচারও দায়। ঘরের কারণে খুব কষ্টে আছি।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিখা সংসদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘরটা দেখে আমরা অবাক হয়েছি। ঘরটি খুবই জরাজীর্ণ। তিনি খুব কষ্টে বসবাস করছিলেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা শ্যামলী রানির পাশে দাঁড়াতে চাই। আমাদের প্রবাসী বিত্তবানরা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। আমরা সে টাকায় নতুন ঘর নির্মাণ করে দিতে চাই। বিত্তবানরা এগিয়ে এলে সমাজে আর অসহায় মানুষ থাকবে না। আমাদের সমাজ পরিবর্তন হলে, আমাদের দেশ পরিবর্তন হবে।

ছয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান বলেন, আমি বিধবা শ্যামলী রানির কষ্টের কথা জানি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে তার জন্য ঘর করে দেওয়া যায় কিনা তা চেষ্টা করব। এছাড়া সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনব।

পাঠক: ১,৫৬৩
আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ